শিরোনাম :
ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সংলাপ : আইন নয়, এবারো প্রয়োগ হবে সাংবিধানিক ক্ষমতা
Published : Thursday, 12 January, 2017 at 12:00 AM
জাহাঙ্গীর কিরণ
ইসি গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সংলাপ : আইন নয়, এবারো প্রয়োগ হবে সাংবিধানিক ক্ষমতাসংসদের বাইরে থাকা অন্যতম বড় দল বিএনপির সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে শুরু হওয়া রাষ্ট্রপতির সংলাপ শেষ পর্যায়ে। মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত এ সংলাপ গতকাল বুধবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে হয়। ১৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নেয় ইসিতে নিবন্ধিত ২৩টি রাজনৈতিক দল। এর বাইরে বিবৃতির মাধ্যমে প্রস্তাবনা দেয় উচ্চ আদালতের রায়ে প্রতীক হারানো জামায়াতে ইসলামী। সংলাপে প্রতিটি দলই নিজ নিজ বিবেচনায় নানা প্রস্তাবনা জমা দেয় রাষ্ট্রপতির কাছে। তবে এতসব প্রস্তাবনার ভিড়ে দুটি বিষয়ে দলগুলোর ঐকমত্য খুঁজে পেয়েছেন রাষ্ট্রপতি। এর একটি হলো সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী ইসি গঠনে আইন তৈরি আর অপরটি হলো, সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে সার্চ কমিটি গঠন করে ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ।
বঙ্গভবন ও নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী মাসের শুরুতেই (ফেব্রুয়ারি) বিদায় নিতে হচ্ছে বর্তমান রকিবউদ্দীন কমিশনকে। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনে ফাইলপত্র গোছানো ও নিজ নিজ দফতরের কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নির্বাচন কমিশনাররা। পাশাপাশি নতুন কমিশনকে বরণ করে নেয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। তারা মনে করেন, এই ক’দিনের মধ্যে আইন তৈরি একেবারেই সম্ভব না। বিষয়টি ভেবেছেন রাষ্ট্রপতি নিজেও। তাই আইন তৈরির জন্য দেয়া দলগুলোর প্রস্তাবনা এ মুহূর্তে বাস্তবায়ন করা যেহেতু সম্ভব হচ্ছে না সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় প্রস্তাবনা সার্চ কমিটি গঠনের দিকেই এগোবেন রাষ্ট্রপতি। আগামী সপ্তাহেই এই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, শামসুল হুদা কমিশনের সময় ইসি নিয়োগ সংক্রান্ত আইনের আলাদা খসড়াসহ নির্বাচনী আইন সংস্কারে একগুচ্ছ সুপারিশ রেখে গেলেও এ নিয়ে মাথাব্যথা ছিল না কারোরই। শুধু তাই নয়, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে সংবিধানে আইন প্রণয়নের কথা থাকলেও গত ৪৫ বছরেও তা আর হয়ে ওঠেনি। এ নিয়ে অনেক আলোচনা-সমলোচনাও রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সংলাপ জনমনে নতুন আস্থা তৈরি করেছিল। বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রপতির কাছে সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী ইসি আইন প্রণয়নের দাবি তুলে ধরেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের কথা বলছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। তারা ভেবেছিলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আহ্বানে সাড়া দিতে পারেন রাষ্ট্রপতি। ৪৫ বছর পর হলেও আইনটি হয়তো এবার হবে। কিন্তু সময় কমের অজুহাতে সেটি এবারো হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বঙ্গভবনের একটি সূত্র জানিয়েছে, এবারো আগের প্রক্রিয়ায় ইসি নিয়োগ হবে। সংবিধানের আলোকে ইসি নিয়োগে আইন করার পরিকল্পনা সরকারের নেই। ২০১২ সালে যেভাবে বর্তমান ইসি গঠন করা হয়েছিল, এবারো সেভাবেই (সার্চ কমিটির মাধ্যমে) হবে। রাষ্ট্রপতি যথাসময়ে সংবিধান অনুসারে ইসি নিয়োগ দেবেন।
এদিকে আইন প্রণয়ন ছাড়াই সার্চ কমিটির মাধ্যমে এবার কমিশন গঠন করা হলে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন আইনবিশারদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। যদিও এ মতের সঙ্গে একমত নন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কমিশন নিয়োগ দেবেন এবং এ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সাংবিধানিক অঙ্গীকার অবহেলা করে কোনো আইন প্রণয়ন ছাড়াই ধারাবাহিকভাবে শুধু মনোনয়নের ভিত্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ প্রদানের কারণে সংবিধানের ১১৮(১) ধারা শুধু লঙ্ঘিতই হচ্ছে না, বরং নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থাও ক্রমান্বয়ে কমছে। এবারো আইন না করেই কমিশন নিয়োগ দেয়া হলে বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে, নাগরিকদের ভোট দেয়ার উৎসাহের যে ঐতিহ্য রয়েছে তা আবারো ধাক্কা খাবে।
তবে এ মতের সঙ্গে একমত নন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশটাও একটা আইন। আদেশ দিয়ে যেটা হবে, আইন করে করলে সেটাই হবে। তা ছাড়া রাষ্ট্রপতি নিজে তো কারো নাম দিচ্ছেন না। নোমিনেশনটা দেবেন সাংবিধানিক পদধারী সার্চ কমিটির সদস্যরা। যারা প্রত্যেকেই ওই পদে বসার আগে সংবিধানের অধীনে শপথ নেন। এর চেয়ে নিরপেক্ষ আর কিছুই হতে পারে না।
উল্লেখ্য, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১১টি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। ১৯৯০, ১৯৯৬ ও ২০০৭ সালের নির্বাচন কমিশন গঠন হয়েছে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। এর আগে-পরে ক্ষমতাসীন দলগুলো দলীয় বিবেচনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দিয়েছে। বিএনপি সরকারের আমলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে বিচারপতি এমএ আজিজের নিয়োগকে কেন্দ্র দেশে রাজনৈতিক সংকট শুরু হয়। সার্চ কমিটির মাধ্যমে বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলেও এ কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাত, নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ব্যর্থতার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে বিভিন্ন মহল থেকে কমিশনের পদত্যাগেরও দাবি ওঠে। বর্তমান এ নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সংলাপ করেছিলেন, তখনো আইন প্রণয়নের আহ্বান এসেছিল বিভিন্ন দল থেকে। কিন্তু পাঁচ বছরেও তা বাস্তব রূপ পায়নি।







প্রথম পাতা'র আরও খবর

অ্যাপস ও ফিড
সামাজিক নেটওয়ার্ক
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আনিস আলমগীর
প্রকাশক : জাকারিয়া চৌধুরী
রোড -১৩৮, প্লট - ১/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২
ফোনঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৩-৫, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৮
ই-মেইল : info@manobkantha.com, mkonlinedesk@gmail.com
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । মানবকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আনিস আলমগীর, প্রকাশক : জাকারিয়া চৌধুরী
রোড -১৩৮, প্লট - ১/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২ ফোনঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৩-৫, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৮
ই-মেইল : info@manobkantha.com, mkonlinedesk@gmail.com