শিরোনাম :
পূর্ণাঙ্গ কমিটি পাচ্ছে বিশ্বনাথ ছাত্রলীগ
মোহাম্মদ আলী শিপন,বিশ্বনাথ (সিলেট)
Published : Wednesday, 11 January, 2017 at 9:19 PM
পূর্ণাঙ্গ কমিটি পাচ্ছে বিশ্বনাথ ছাত্রলীগ সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রলীগের তিন মাস মেয়াদী আহ্বায়ক কমিটির সাড়ে ৪ বছর পেরিয়েছে। অবশেষে আহ্বায়ক কমিটি ভেঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। নেতৃত্ব পেতে মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ শীর্ষ নেতাদের কাছেও নিজেদের অবস্থার তুলে ধরতে সচেষ্ট সম্ভাব্য প্রার্থীরা। জেলা ও উপজেলা ছাত্রলীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জানুয়ারির শেষের দিকে উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে। ইতোমধ্যে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ফলে বিশ্বনাথ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মনে করছেন শিগগিরই উপজেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। এতে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরছে।
উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পরপরই ছাত্রলীগ দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তবে ভেতরে ভেতরে তাদের গ্রুপিং থাকলেও সম্প্রতি তারা প্রকাশ্যে দুটি গ্রুপে অবস্থান নিয়েছে। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর উপজেলা সদরে পৃথকভাবে বিজয় মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী একপক্ষ পালন করলেও অপর পক্ষ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপজেলায় পালন করেনি।  
জানা গেছে, উপজেলা কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা শোডাউন, মতবিনিময় ইত্যাদি করলেও কমিটি নির্ধারিত হবে মূলত লবিং আর গ্রুপিংয়ের জোরেই। জেলা ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বিভিন্ন প্রভাব মিলিয়ে প্রায় দুটি গ্রুপ কমিটিতে থাকার চেষ্টা করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা জানান, উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন হলে শেষ পর্যন্ত সমঝোতার কমিটি হবে। দুটি গ্রুপের নেতাদের কমিটিতে স্থান দেয়া হতে পারে।
তৃণমূল ছাত্রলীগ কর্মীদের সঙ্গে কথা জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় বেশ এগিয়ে আছেন কয়েকজন। এর মধ্যে সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন, ফয়জুল ইসলাম জয়, আবদুল মালিক সুমন, মুহিবুর রহমান সুইট, শিতল বৈদ্য। আর সাধারণ সম্পাদক পদে যারা আলোচনায় তারা হলেন, শাহ বুরহান আহমদ রুবেল, কাওছার আহমদ, খালেদ আহমদ, আরিফুল, জুবায়ের আহমদ জয়, কামরুল ইসলাম, শিপন আহমদ, আলী আহমদ জুয়েল,মিয়াদ আহমদ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রলীগ নেতা জানান, উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে একদিকে যেমন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের গ্রুপিং কাজ করছে তেমনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। পছন্দের প্রার্থীদের পদ পাইয়ে দিতে সবাই কমবেশি ব্যস্ত থাকবেন। তবে যাদের ছাত্রত্ব নেই কিংবা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয় এমন কমিটি গঠন না করার জন্য জেলা ছাত্রলীগ নেতাদের প্রতি তারা আহ্বান জানান।
কমিটি গঠনের ব্যাপারে বিশ্বনাথ ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু খান বলেন, সম্মেলন হলে তৃণমূলের কর্মীদের মতামতের প্রতিফলন ঘটত। তবে যেভাবেই কমিটি হোক যোগ্য নেতারাই দায়িত্ব পাবেন আশা করি। সংগঠনকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন-এমন নেতৃত্ব না হলে সংগঠন ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
বিশ্বনাথ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মিয়াদ আহমদ বলেন, সম্মেলন হলে ভালো হতো। আমি মনে করি কমিটিতে যাদের ছাত্রত্ব আছে তাদেরকেই রাখা উচিত। যাদের ছাত্রত্ব আছে তাদের দিয়েই কমিটি গঠন করার জন্য তিনি জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।
বিশ্বনাথ ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শীতল বৈদ্য বলেন, কমিটি না হওয়ায় নেতাকর্মীরা ঝিমিয়ে পড়েছেন। কমিটি হলে ছাত্রলীগের প্রাণ ফিরে পাবে। তবে খুব শিগগিরই কমিটি গঠন হবে বলে শোনা যাচ্ছে। তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী বলে জানান।  
উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য অ্যাডভোকেট সায়েদ মিয়া বলেন, ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা খুবই জরুরী। তবে শুনেছি খুব শিগগিরই ছাত্রলীগের কমিটি গঠিত হবে।
বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহিবুর রহমান সুইট বলেন, অতীতের চেয়ে বর্তমানে বিশ্বনাথ ছাত্রলীগ অনেক শক্তিশালী। জেলা ছাত্রলীগ চাইলেই উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন করতে পারে। এজন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। দলীয় গ্রুপিংয়ের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ একটি বড় সংগঠন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা মতপার্থক্য থাকতে পারে। নতুন নেতৃত্ব আসলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত আরো শক্তিশালী হবে বলে তিনি মনে করেন।
বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ফয়জুল ইসলাম জয় বলেন, বিশ্বনাথে ছাত্রলীগের কোন কোন্দল কিংবা গ্রুপিং নেই। ছাত্রলীগকে শক্তিশালী করতে ত্যাগী ও মাঠের নেতাকর্মীদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা খুবই জরুরী বলে তিনি মনে করেন।
সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ মানবকণ্ঠকে বলেন, সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা ছাত্রলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মীসভা আহ্বান করা হবে। এরপর আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করা হবে বলে তিনি জানান।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা ছাত্রলীগের ১৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয় ২০১২ সালের ৩০ জুন। ফয়জুল ইসলাম জয়কে আহ্বায়ক ও জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল মালিক সুমন ও মুহিবুর রহমান সুইটকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির মেয়াদ ছিল ৩ মাস। এ সময়ের মধ্যেই সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার দায়িত্ব ছিল আহ্বায়ক কমিটির।

মানবকণ্ঠ/এনআই






অ্যাপস ও ফিড
সামাজিক নেটওয়ার্ক
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আনিস আলমগীর
প্রকাশক : জাকারিয়া চৌধুরী
রোড -১৩৮, প্লট - ১/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২
ফোনঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৩-৫, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৮
ই-মেইল : info@manobkantha.com, mkonlinedesk@gmail.com
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । মানবকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আনিস আলমগীর, প্রকাশক : জাকারিয়া চৌধুরী
রোড -১৩৮, প্লট - ১/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২ ফোনঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৩-৫, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৮
ই-মেইল : info@manobkantha.com, mkonlinedesk@gmail.com