শিরোনাম :
সাগরে নতুন করে তেল গ্যাস অনুসন্ধান কাজ শুরু হতে যাচ্ছে
সঞ্চিতা সীতু
Published : Wednesday, 11 January, 2017 at 8:39 AM

সাগরে নতুন করে তেল গ্যাস অনুসন্ধান কাজ শুরু হতে যাচ্ছেবঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাপেক্স ও অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি সান্তোস শিগগিরই মগনামায় কূপ খনন শুরু করবে। আর কোরীয় কোম্পানি দাইয়ুর সঙ্গেও চলতি মাসেই উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি (পিএসসি) সই হতে পারে। অন্যদিকে ভারতের ওএনজিসি ভিদেশ লিমিটেড দ্বিমাত্রিক জরিপের একটি ধাপ শেষ করেছে।
সাগরে ১৬নং ব্লকের মগনামায় যৌথভাবে খনিজ অনুসন্ধান শুরু করতে যাচ্ছে বাপেক্স ও সান্তোস। এজন্য ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির খসড়া (এসপিএ) তৈরি করেছে পেট্রোবাংলা। ১ জানুয়ারি এই চুক্তির খসড়া অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে (একনেক) পাঠিয়েছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। একনেক অনুমোদন দিলে এই চুক্তি হবে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মগনামা অনুসন্ধান কূপ-২ খনন করতে ২৩০ কোটি ৮০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হবে। জিডিএফ তহবিল থেকে এ ব্যয় নির্বাহ করা হবে। সরকার অনুমোদন দিলে আগামী ৩১  জানুয়ারির মধ্যে বিনিয়োগকৃত অর্থ সান্তোসকে দেয়া হবে। বর্তমানে অগভীর সমুদ্রের ১১ নম্বর ব্লকে তেল, গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কাজ করছে সান্তোস।
এদিকে সাগরের ১২ নম্বর ব্লকের তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক কোম্পানি দাইয়ুর সঙ্গে খুব শিগগিরই পিএসসি স্বাক্ষর করবে পেট্রোবাংলা।
গত বছরের ৭ ডিসেম্বর দাইয়ুর সঙ্গে অনুস্বাক্ষর করেছে পেট্রোবাংলা। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৩৫৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ গ্যাসব্লক ইজারা দেয়ার আগে পিএসসির খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং করার কথা। সে অনুযায়ী গত সপ্তাহে ভেটিং-এ পাঠানো হয়েছে বলে পেট্রোবাংলা জানায়। ভেটিং শেষে পিএসসি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এটি চলতি মাসের মধ্যেই হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পেট্রোবাংলা আশা করছে, পিএসসি হলে ২০১৭ সালের মধ্যে জরিপ শুরু করা যাবে এবং ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ জরিপের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে তেল-গ্যাসের প্রাপ্যতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর সাগরের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়। প্রথমে গভীর সমুদ্রের ১০ ও ১১ ব্লক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি কনোকো-ফিলিপসের কাছে ইজারা দেয়। এরপর ১২, ১৬ ও ২১ নম্বর ব্লকের জন্য সমান অংশীদারীর ভিত্তিতে দরপত্র জমা দেয় কনোকো-ফিলিপস ও স্টেট অয়েল। অগভীর ১০ ও ১১ নম্বর ব্লক নিয়ে অনেক দিন ধরে দরকষাকষি চলে। গত বছর  ঠিক হলেও শেষ পর্যন্ত চুক্তি সই করেনি কনোকো-ফিলিপস। তারা ব্লক দুটি ছেড়েও দেয়। এগুলোতে সাত ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাস আছে বলে ঘোষণা দিয়েছিল তারা। এ পরিমাণ গ্যাস দেশের বর্তমান মোট মজুদের অর্ধেকের বেশি।
কনোকো-ফিলিপস সরে দাঁড়ানোর পর সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ ঝিমিয়ে পড়ে। কনোকো-ফিলিপস চলে যাওয়ার পর ১২, ১৬ ও ২১ নম্বর ব্লকে স্টেট অয়েলকে এককভাবে কাজ করার আহ্বান করেছিল পেট্রোবাংলা। তারা আগের দরপত্রে উল্লিখিত গ্যাসের দামের সঙ্গে প্রতি বছর ২ শতাংশ যোগ করার প্রস্তাব দেয়। আগের যৌথ পিএসসি অনুযায়ী এ ধরনের সুবিধা দেয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই নতুন করে প্রস্তাব দেয়ার আহ্বান জানানো হয় স্টেট অয়েলকে। কিন্তু স্টেট অয়েল তাতে সাড়া না দেয়ায় কোরিয়ান কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা শুরু করা হয়। এরপরই নতুন করে সাগরে অনুসন্ধান কাজ শুরুর প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে।
এদিকে বঙ্গোপসাগরের অগভীর ৪ ও ৯ নম্বর ব্লকে খনিজ অনুসন্ধানে দ্বিমাত্রিক জরিপের একটি ধাপ শেষ করেছে ভারতের ওএনজিসি ভিদেশ লিমিটেড। গত বছরের ৮ নভেম্বর তারা কাজ শুরু করে।
৪ নম্বর ব্লকের মোট আয়তন সাত হাজার ২৬৯ বর্গকিলোমিটার। এই ব্লকের ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার লাইন দ্বিমাত্রিক জরিপ করা হবে। এই ব্লকের দ্বিমাত্রিক জরিপের জন্য ১০টি পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে ৯ নম্বর ব্লকের আয়তন সাত হাজার ২৬ বর্গকিলোমিটার। এই ব্লকের ২ হাজার ৮৫০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক জরিপ করা হবে। এ জন্য ৭টি পয়েন্ট নির্ধারণ করেছিল ওএনজিসি। সম্প্রতি তাদের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে বলে পেট্রোবাংলা জানিয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় দুই বছর পর ফেব্রুয়ারিতে তাদের দ্বিমাত্রিক জরিপ শুরুর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা নভেম্বর মাসে এসে জরিপ কাজ শুরু করে। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ জানায়, ২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ওএনজিসি অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের (ওআইএল) সঙ্গে চুক্তি করে পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগ। চীনের ভূতাত্ত্বিক সেবাদানকারী সংস্থা বিজিপিকে দুটি ব্লকের জরিপকৃত খনিজ সম্পদের পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য তৃতীয় পক্ষ হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ৪নং ব্লকে ৮ বছরের মেয়াদের জন্য ওএনজিসিকে সরকারের কাছে গ্যারান্টি অর্থ রাখতে হবে ৫ কোটি ৮৪ লাখ ডলার এবং ৯নং ব্লকের জন্য রাখতে হবে ৮ কোটি ৬৪ লাখ ডলার।
ওএনসিজি এবং ওআইএল বাণিজ্যিক কার্যক্রমে গেলে সরকারের পক্ষে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) মোট বিনিয়োগের ১০ শতাংশ বিনিয়োগ করবে। আর তেল-গ্যাস উত্তোলন করা না হলে বাপেক্সকে কোনো খরচ দিতে হবে না।
এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ১৬ নম্বর ব্লকের মগনামায় সান্তোস-বাপেক্স অনুসন্ধান কূপ খননের প্রস্তুতি নিচ্ছে। চলতি মাসেই কাজ শুরু হতে পারে। তিনি জানান, কোরীয় কোম্পানি দাইয়ুর সঙ্গে গভীর সমুদ্রের ১২ নম্বর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য খুব শিগগির পিএসসি সই হবে। এদিকে ওএনজিসি দ্বিমাত্রিক জরিপের একটি ধাপের কাজ শেষ করেছে।

মানবকণ্ঠ/আরএস





অ্যাপস ও ফিড
সামাজিক নেটওয়ার্ক
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আনিস আলমগীর
প্রকাশক : জাকারিয়া চৌধুরী
রোড -১৩৮, প্লট - ১/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২
ফোনঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৩-৫, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৮
ই-মেইল : info@manobkantha.com, mkonlinedesk@gmail.com
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । মানবকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আনিস আলমগীর, প্রকাশক : জাকারিয়া চৌধুরী
রোড -১৩৮, প্লট - ১/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২ ফোনঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৩-৫, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৮
ই-মেইল : info@manobkantha.com, mkonlinedesk@gmail.com