শিরোনাম :
পাখির জন্য অন্যরকম ভালবাসা এসএম ইকবালের
এসএম আবু সাঈদ, বগুড়া ব্যুরো
Published : Sunday, 8 January, 2017 at 10:45 PM
পাখির জন্য অন্যরকম ভালবাসা এসএম ইকবালেরবগুড়া সদর ও শাজাহানপুর উপজেলায় মানুষ কিছুটা হলেও পরিবেশ ও জীববৈচিত্র সচেতন হয়েছে। এজন্য এ অঞ্চলে আবারো ফিরে আসছে বিলুপ্তপ্রায় দেশি ও অতিথি পাখি। কিছু কিছু অতিথি পাখি এখানে বাসা বাঁধছে ডিম দিচ্ছে এবং বংশ বৃদ্ধি করছে। পূর্ব বগুড়ার করতোয়া, বাঙালি ও যমুনা বিধৌত পলি অঞ্চল ছিলো দেশি নানা প্রজাতির গাছে ছায়া ঢাকা। প্রত্যেক গ্রামের পাশে ছিলো বিল, বড় দিঘী, খাল, ঢোবা এখানেই পাখিদের প্রচুর খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিলো। নদীগুলোর উজানে প্রতিবেশি দেশ একতরফা পানি প্রত্যাহার করায় এ নদী ও জলাশয়গুলো নব্যতা হারায়, শুকিয়ে যায়। পাখিদের আশ্রয়স্থল ঝোপঝাড় কেটে ফেলা হয়। ফলে আশ্রয়স্থল ধ্বংশ হয়, খাবার ফুরিয়ে যায় এবং  শিকারীদের অত্যাচারে ভাটির দেশে চলে যায় পাখি। এভাবেই এঅঞ্চল ছাড়া হয় দেশি এবং বিদেশি পাখি।
বর্তমানে বগুড়ায় পাখির জন্য আবারো কিছুটা অনুকূল পরিবেশ ফিরে আসায় হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দেখা মিলছে। বিশেষ করে বগুড়া সদরের পৌরপার্ক, শাজাহানপুর উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট এবং প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের বাঁশ ঝাড়, ঝোপ জঙ্গলে দেশি এবং বিদেশি ৯৩ প্রজাতির বেশি পাখি চোখে পড়ছে। এসব পাখি শিকারীদের থেকে নিরাপদ রাখা ও উপযুক্ত পরিবেশ প্রদানের জন্য একজন পাখি প্রেমী এসএম ইকবাল নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি পাখিসহ বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। প্রাণীকুলের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য গঠন করেছেন পরিবেশবাদী সংগঠন Wildlife & Environment Save Team (WEST).পাখির জন্য অন্যরকম ভালবাসা এসএম ইকবালের
তিনি বগুড়া সরকারী শাহ্ সুলতান কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগে সাবেক সহকারি অধ্যাপক বর্তমানে টাঙ্গগাইল এমএম আলী কলেজের সহযোগী অধ্যাপক। এসএম ইকবাল বগুড়ায় স্থায়ী ভাবে বাস করায় বিভিন্ন জাতের পাখির জীবনধারা নিয়ে গবেষণা করছেন। শাজাহানপুর রাজার পুরাতন উপজেলার ডেমাজানী গ্রামে বলিহার পরিত্যাক্ত কাচারীবাড়ির শত বছরে মেহগনী গাছসহ আড়িয়া বাজার, মানিকদিপা ফায়ারিং রেঞ্জ, জাহাঙ্গীরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গেলে দেখা মেলে বিলুপ্ত হওয়া দেশি বিদেশি পাখি। বিরল ও দূর্লভ প্রজাতির পাখির মধ্যে আছে, চন্দনা টিয়া, বামুনী কাঠ শালিক, খয়রাপাখি, পাপিয়া, বনসুন্দরী/চামুচা, দাগি ছাতারে, সাইবেরীয়ান চুনীকন্ঠী, লক্ষীপেঁচা, কমলা বউ, দুধরাজ, নীল শিসদামারের মতো দূর্লভ প্রজাতির পাখি। গাঙ শালিক, বিভিন্ন জাতের চিল, কাক, শালিক, কাঠ ঠোকরা, বসন্ত বৌরী, চড়ুই, বিভিন্ন জাতের বক, জলজ পাখি পানকৌরি, কোকিল এবং ঘুঘু।  এই উপজেলায় ৯৩ প্রজাতির বেশি দূর্লভ পাখি স্থায়ী বসবাস করে। এছাড়াও বিভিন্ন দেশ থেকে আশা পরিযায়ী (অতিথি) পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে এই উপজেলা।
সংগঠনটির পাশাপাশি বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ রাজশাহীর সহযোগিতায় শিকারীদের প্রতিহত করা, পাখিদের আবাসস্থল রক্ষা ও সংরক্ষণ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। পাখির জন্য, বন্য প্রাণীর জন্য মানুষের এতো ভালোবাসা থাকতে পারে তার কার্যক্রম না দেখলে বিশ্বাস হবে না। গাছে গাছে পাখির জন্য টিকসই ভালো বাসা তৈরি করতে কাঠের গুড়ি খোদায় করে নিজ হাতে স্থাপন করেছেন তিনি। পাখিদের খাদ্য নিশ্চিত করতে সাম্প্রতি তিনি বগুড়ার শাজাহানপুরে পাখির জন্য সংরক্ষিত এলাকাতে ভুট্ট, কাউনসহ পাখির খাদ্য জাতীয় বিভিন্ন শষ্য চাষ করেছেন।
শাজাহানপুর উপজেলায় যেমন আছে বিভিন্ন জাতের প্রাচীন বৃক্ষ তেমনি আছে ঘন ঝোপ-ঝাড়, আছে বিভিন্ন জাতের শাক-সবজির আবাদ। আছে বড় দুটি সেনানিবাস যা বৃক্ষরাজীতে ভরপুর। এ ছাড়া বাঁশ ঝাড়ের জন্য বিখ্যাত হওয়ায় পাখিদের জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে উঠেছে শাজাহানপুর উপজেলা ও বগুড়া সদর।পাখির জন্য অন্যরকম ভালবাসা এসএম ইকবালের
সহযোগি অধ্যাপক এসএম ইকবাল জানান, বগুড়া জেলায় পাখিদের উপর চেকলিস্ট তৈরি করার সময় ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত শুধু শাজাহানপুর উপজেলাতেই ৯৩ প্রজাতির পাখির সন্ধান পাওয়া গেছে ডেমাজানী বাজারে। ২০১৩ সালের মে মাসে দেশে প্রায় বিলুপ্ত ৮টি চন্দনা টিয়ার এক সঙ্গে সন্ধান মিলেছে। চন্দনা টিয়া প্রাচীন মেহগনী গাছে কলোনী (সমাবেশ) তৈরি করেছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় এবং ওয়েষ্ট এর তত্ত্বাবধানে চন্দনা টিয়া এখানে বিপদমুক্ত আছে। দূর-দূরন্ত থেকে বহু লোক এ পাখি দেখার জন্য মেহগনী গাছের নিচে ভিড় করে। এই ডেমাজানী বাজারের আশে পাশে রয়েছে দূর্লভ আবাসিক বামুনী কাঠ শালিক। রাজশাহী জেলার কিছু এলাকা ছাড়া এ পাখি আর কোথাও পাওয়া যায়নি।
পাখি প্রেমীক ইকবালকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেন ওয়েস্ট বাংলাদেশ ডেমাজানী শাখার সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন, বিমান, ইয়াছিন আলি, মিজানুর রহমান, আজিজার রহমান, বগুড়া বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তৌহিদ পারভেজ বিপ্লব, ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার আদনান আজাদ আসিফ, আহসান হাবিব, অনিকসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষ।

মানবকণ্ঠ/এসএস





অ্যাপস ও ফিড
সামাজিক নেটওয়ার্ক
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আনিস আলমগীর
প্রকাশক : জাকারিয়া চৌধুরী
রোড -১৩৮, প্লট - ১/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২
ফোনঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৩-৫, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৮
ই-মেইল : info@manobkantha.com, mkonlinedesk@gmail.com
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । মানবকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আনিস আলমগীর, প্রকাশক : জাকারিয়া চৌধুরী
রোড -১৩৮, প্লট - ১/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২ ফোনঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৩-৫, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৮
ই-মেইল : info@manobkantha.com, mkonlinedesk@gmail.com