শিরোনাম :
ছাত্রলীগ: প্রাণের আবেগ মিশেছে যেখানে
খন্দকার হাবীব আহসান
Published : Thursday, 5 January, 2017 at 8:28 PM
ছাত্রলীগ: প্রাণের আবেগ মিশেছে যেখানেরৌদ্রের অগ্নিতাপে এই রাজপথে যখন দিনমজুরও ক্লান্ত, রক্তের ফোটা যখন ঘাম হয়ে ঝরে কপাল বেয়ে শরীর জুড়ে, ক্লান্ত শরীরে প্রচণ্ড উদ্যমে স্বপ্নে বিভোর কিছু তরুণ চোখ তখনও রাজপথের মিছিলে ছুটে চলে অবিরাম- অধিকার আদায়ের দাবিতে, বিজয় দিনের উল্লাসে, উৎসবের আনন্দ মিছিলে; কিংবা বেদনার দিনের কষ্ট ভাগাভাগির মৌনমিছিলে।
দিন শেষে একদিন কেউ লাশ হয়ে ফিরে আমাদের ঘরে, কেওবা রক্তে ভেজা শার্টটি ঝুলিয়ে রাখে কষ্টের লকারে ভালবাসা দিয়ে, আবার কখনো মেধার বিনিময়ে প্রচণ্ড ভালবেসে ছাত্রত্ব হারিয়ে শুধুই গ্লানির ছাপ লাগিয়ে ফিরে আসি স্বপ্নের বিনিময়ে অশ্রু কিনে। তবুও হৃদয়ে গেঁথে যায় রাজপথের দিনগুলি, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পথচলা দিনগুলি- শৈশবের ভালবাসা, কৈশরের উচ্ছ্বাস আর প্রথম যৌবনের প্রেম হয়ে রয়।
১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জন্ম হয়েছিল ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধতার তাগিদে, ভালবসার পুঁজিতে, প্রচণ্ড আবেগ নিয়ে প্রানের দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের  অধিকার আদায়ের জন্য।
দিনে দিনে প্রতিটি লড়াই সংগ্রামে উৎসব আমেজে এই সংগঠনের কর্মীদের রাজপথের দিনগুলিতে প্রতিনিয়ত যেমন বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস থাকে, তেমনি সাবেক নেতা-কর্মীর জন্য সোনালী অতীত হয়ে হৃদয়ের মানসপটে রয়ে যায়।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সোনার বাংলার কোটি জনতার নিভৃত প্রেমে নিগূঢ় ভালবাসায় বাধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস, প্রাণের স্পন্দন হয়ে আছে আজন্ম। চোখ বুজলেই হয়ত ভেসে ওঠে সেই  নির্ঘুম ভোরগুলি যেখানে রাতভর উল্লাসে কেটে প্রথম প্রহরে মিছিল শেষে চঞ্চলতায় মুখর হত হলের প্রাঙ্গন। যেখানে সুখে-দুখে, লড়াই সংগ্রামে হতাহত হয়ে সহকর্মীর বুক জাপটে কান্নার দৃশ্যগুলো অমরত্ব পেয়ে থাকে হৃদয়ের কোণে।
৪ঠা জানুয়ারি ছাত্র সমাজের প্রতিটি ছাত্রের অন্তরে চেপে থাকা বিপ্লবী চেতনা কিংবা মেধাবী শিক্ষার্থীর সফলতার দিনে চিৎকার-উল্লাসের আবেগী ক্রন্দন আর অশ্রু ফোটায় মিশে রবে চিরদিন, শুধু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন হয়ে নয় আপামর ছাত্রজনতার ভালবাসা হয়ে।
৬২ এর সংগ্রামী চেতনায় শিক্ষা আন্দোলনের নৈতিক হুংকারে যেমন জেগে উঠেছিল, তেমনি ভাঙ্গা স্কুলের কৃষকের এক মেধাবী ছেলের স্বপ্নীল চোখে, ঝড়ের বাতাসে কুপি জ্বেলে পড়া দরিদ্র মেধাবী মুখে জ্বলজ্বল করে ছাত্রলীগ নামক এই মায়াভরা আবেগ। নিঃস্বার্থ ভাবেই প্রানের আবেগে ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা ছুটে চলে অবিরাম সোনার বাংলার স্বপ্ন চোখে।
ছাত্রলীগের দুর্বার ছেলেরা প্রানের দাবিতে ৫২-এর ভাষা আন্দোলনে তাজা রক্ত দিয়ে বাংলাকে যেমন রাষ্ট্রভাষা করেছিল আত্মত্যাগের মাধ্যামে, ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন দুর্বার করে তুলেছিল, ৬৯-এর গণমানুষের ফুঁসে ওঠা বিশাল জনতার রুদ্ররোষকে গনঅভ্যুত্থানে রূপ দিয়েছিল অধিকার রক্ষার আবেগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া এই সংগঠনের নেতা কর্মীরাই।
বঙ্গবন্ধুর ডাকে একাত্তরে জেগে ওঠা স্বাধীনতার মিছিলে গুলিবিদ্ধ লাশের ভিড়ে একে একে ছাত্রলীগের ১৭ হাজার নেতা কর্মী প্রান দিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার জন্য, এদেশের নিপীড়িত নির্যাতিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু ভালবাসা আর আবেগ দিয়ে। প্রগতির পতাকাবাহী প্রতিটি মানুষের নীরব অথবা সরব চেতনায় নতুনের মশাল হাতে ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে তরুণ সমাজের আশাভরা চোখের উজ্জ্বল স্বপ্ন, বুকভরা নিঃশ্বাসে ছাত্রলীগ বেঁচে রবে আজীবন এমনই আবেগ আর ভালবাসা দিয়ে প্রতিটি প্রানের দাবিতে প্রাপ্তির খাতায় শূন্যতা রেখেই।
অনুর্ধ্ব ২৯ বয়সী শিক্ষার্থীদের নিয়ে গড়া এই সংগঠন অতীতের ন্যায় বর্তমানেও অসহায় মানুষের পাশে সহায় হয়ে কখনো আগুন সন্ত্রাসের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করে, কখনও বন্যা কবলিত মানুষের পাশে অন্ন নিয়ে, শীতার্ত মানুষের পাশে বস্ত্র নিয়ে কিংবা ক্যাম্পাস ক্লিন ও সবুজায়নের মত ইতিবাচক কাজ করে যাচ্ছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন থেকে বঙ্গবন্ধু তনয়া রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে ভ্যানগার্ড হয়ে কাজ করছে ছাত্রলীগ।
এভাবেই অতীতের ন্যায় দিনরাত ক্লান্তিহীন হয়ে মানুষের পাশে থেকে আর সংগ্রাম বিপ্লবে রাজপথে থেকে নেতা কর্মীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আবেগ আর ভালবাসার প্রাণের চেয়ে প্রিয় এই সংগঠনকে করে তুলছে চিরযৌবনা। ভালবাসা সেই সূর্য সন্তানদের- যারা শত অপমান, গ্লানি- মিথ্যা অপবাদের প্রতিবাদ করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে সত্যিকারের ভালবেসে এসেছে, বিনিময়ে কখনো কিছু প্রতিদান পেয়েছে অথবা বঞ্চিত হয়ে নীরবে সয়ে গেছে। কালের স্রোতে আজীবন এভাবেই ছাত্রজনতার আবেগ ভালবাসা আর প্রাণের সংগঠন হয়ে থাকুক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। যুগ যুগ জিও ছাত্রলীগ।

লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।






অ্যাপস ও ফিড
সামাজিক নেটওয়ার্ক
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আনিস আলমগীর
প্রকাশক : জাকারিয়া চৌধুরী
রোড -১৩৮, প্লট - ১/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২
ফোনঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৩-৫, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৮
ই-মেইল : info@manobkantha.com, mkonlinedesk@gmail.com
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । মানবকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আবু বকর চৌধুরী, প্রকাশক : জাকারিয়া চৌধুরী
রোড -১৩৮, প্লট - ১/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২ ফোনঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৩-৫, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৮
ই-মেইল : info@manobkantha.com, mkonlinedesk@gmail.com