শিরোনাম :
রেলওয়ের দুরবস্থা ঘোচাতে দূরদর্শী উদ্যোগ জরুরি
সম্পাদকীয় ডেস্ক
Published : Wednesday, 4 January, 2017 at 1:03 PM
রেলওয়ের দুরবস্থা ঘোচাতে দূরদর্শী উদ্যোগ জরুরি দেশের সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ রেলওয়ের চিত্র ক্রমবিবর্ণ হচ্ছে। বিমানের বর্তমান দুরবস্থার কথা তো নতুন করে বলার কিছু নেই। সড়কপথে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত সড়ক পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির অবস্থাও তথৈবচ। বাংলাদেশ রেলওয়েও চলেছে একই পথে। ৩ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে সহযোগী একটি দৈনিকের প্রতিবেদনে প্রকাশ, বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় ৬৫ শতাংশ ইঞ্জিনের আয়ু শেষ হয়েছে ১৫ বছর আগেই। মেয়াদোত্তীর্ণ এসব ইঞ্জিন দিয়ে এখনো চলছে রেলের যাত্রী পরিবহন। এতে দুর্ঘটনা যেমন বাড়ছে তেমনি নিরাপদ ভ্রমণে রেলের প্রতি আস্থাও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই প্রতিবেদনে প্রকাশ, বাংলাদেশ রেলওয়েতে বর্তমানে মোট ২৮২টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) রয়েছে। এর মধ্যে ১৮৬টি মিটারগেজ ও ৯৬টি ব্রডগেজ। এর মধ্যে সিংহভাগের আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে।
৭০টি ইঞ্জিন কেনার ব্যাপারে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম দফা দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই সময় ২৫টি কোম্পানি দরপত্র কিনলেও শর্তের কারণে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান তা জমা দেয়। তবে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় প্রথম দফা দরপত্র বাতিল করা হয়। এরপর ২০১৩ সালের অক্টোবরে দ্বিতীয় দফা দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে আরপিএম ছাড়াও আরো কিছু কঠিন শর্ত দেয়া হয়। ফলে দরপত্রে অংশ নেয়া কারিগরি প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়। জানা যায় যে, দরপত্রে ইঞ্জিনের ঘূর্ণন গতিবেগ একক (আরপিএম) নির্দিষ্ট করে দিয়ে টু স্ট্রোক বিশিষ্ট মডেলের ইঞ্জিন কিনতে চাইছে রেলওয়ে। কিন্তু এও জানা গেছে, এ ধরনের ইঞ্জিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম। এসব ইঞ্জিনে যেমন বিপুল জ্বালানি ব্যয় হবে তেমনি ইঞ্জিনগুলো ক্রয়েও শত কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে। এর আগে ডেমু ট্রেন কিনে বিপুল লোকসান দেয়া হয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এ কথা বলা যায় যে, রেল খাতটি পরিচালনাগত দূরদর্শিতার অভাব রয়েছে। শুধু ইঞ্জিন সংকটই নয়, আরো বহুবিধ সংকটে ভুগছে রেল খাত। সেবার মান খুবই প্রশ্নবিদ্ধ। চলাচলের ক্ষেত্রে শিডিউলের ব্যাপারেও বিরাজ করছে একই অবস্থা। সব মিলিয়ে রেলওয়ে যেন পড়েছে হ-য-ব-র-ল এক পরিস্থিতিতে। এর ফলে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক ও নিরাপদ এই যাতায়াত মাধ্যমের প্রতি যাত্রীরা ক্রমেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলায় এর বহুমুখী বিরূপ প্রভাব পড়ছে রেল খাতে। রেল খাতকে চাঙ্গা করতে বাস্তবানুগ পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।
বাংলাদেশ রেলওয়েকে চাঙ্গা ও এর চাকচিক্য ফিরিয়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এ বিভাগকে অগ্রাধিকার দেয়া ছাড়া বিকল্প নেই। দূরদর্শী কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি এবং অভ্যন্তরীণ পরিবহন বৈশিষ্ট্য অনুসারে রেলওয়ে হচ্ছে সবচেয়ে উপযুক্ত পরিবহন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অবহেলা, অদূরদর্শিতা এবং অদৃশ্য শক্তির কলকাঠি নাড়ার কারণে রেলের দুরবস্থা প্রকট হয়ে উঠেছে। রেলের গা থেকে এসব সমস্যা ঝেড়ে ফেলতে পারলে পরিবহন খাতে একটি বিপ্লব আসতে পারে। রেলের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করা মোটেও দুরূহ কোনো বিষয় নয়। বন্ধ স্টেশন চালুসহ রেললাইন বিস্তৃতকরণ ও উন্নীতকরণের কাজ আরো গতিশীল করা জরুরি। রেলওয়ের আয়ের একটি বড় মাধ্যম মালামাল পরিবহন। কিন্তু এক্ষেত্রেও চিত্র সন্তোষজনক নয়। রেলওয়ে আবার উন্নত সেবার প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়াকএটিই প্রত্যাশা।

মানবকণ্ঠ/আরএস






অ্যাপস ও ফিড
সামাজিক নেটওয়ার্ক
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আবু বকর চৌধুরী
প্রকাশক : জাকারিয়া চৌধুরী
রোড -১৩৮, প্লট - ১/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২
ফোনঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৩-৫, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৮
ই-মেইল : info@manobkantha.com, mkonlinedesk@gmail.com
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । মানবকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আবু বকর চৌধুরী, প্রকাশক : জাকারিয়া চৌধুরী
রোড -১৩৮, প্লট - ১/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২ ফোনঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৩-৫, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৮
ই-মেইল : info@manobkantha.com, mkonlinedesk@gmail.com