শিরোনাম :
বিদ্যুতে সাফল্য পথ দেখাবে অগ্রগতির
কাজী সিরাজুল ইসলাম
Published : Tuesday, 3 January, 2017 at 2:43 PM
বিদ্যুতে সাফল্য পথ দেখাবে অগ্রগতিরবর্তমান যুগ হলো তথ্য প্রযুক্তির যুগ। কৃষি উৎপাদনেও সাফল্য পেতে হলে চাই প্রযুক্তির ব্যবহার। শিক্ষাদীক্ষা থেকে জীবনের এমন কোনো পর্যায় নেই যেখানে প্রযুক্তির ব্যবহার নেই। প্রযুক্তি ব্যবহারে ইন্ধন শক্তির জোগান দেয় বিদ্যুৎ। আজকের যুগে উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেশকে দ্রুত এগিয়ে নিতে হলে বিদ্যুতের ক্ষেত্রে সক্ষমতা অর্জন অপরিহার্য শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশকে দ্রুত উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করে। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে কুইক রেন্টাল পদ্ধতির পথ বেছে নেয়া হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ পদ্ধতিতে বাড়তি খরচ হলেও কম সময়ের মধ্যে ইন্ধন শক্তি জোগানোর সেটিই ছিল প্রকৃষ্ট পথ। বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের সঠিক পথ বেছে নেয়ায় গত ৭ বছরে উৎপাদন তিন গুণ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।
নিকট অতীতে জাতীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ-২০১৬ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গত সাত বছরে তার সরকার ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছে। এ সময়ে এক কোটি ১৪ লাখ নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়েছে। সে সুবাদে দেশের ৭৮ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা উপভোগ করছে। উন্নয়নের প্রথম সোপানই হলো বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ। এর মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পায়। সেদিকে লক্ষ রেখেই সরকার বিদ্যুৎ আমদানির জন্য ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ভুটান ও নেপালে উৎপাদন করে সে বিদ্যুৎ নিয়ে আসা হবে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের কাজ শুরু করা হয়েছে। এছাড়া সরকার সৌরবিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস উৎপাদনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এ দেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে এগিয়ে নিতে ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। আর ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫ হাজার এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণই শুধু নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার প্রধানের রূপরেখা আশাজাগানিয়াও বটে। আমরা আশা করব উন্নয়নের স্বার্থে বিদ্যুৎসংক্রান্ত পরিকল্পনার বাস্তবায়নকে প্রাধান্য দেয়া হবে। দেশকে অগ্রগতির পথে নিয়ে যেতে হলে আগামী পাঁচ বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্বিগুণ অথবা তার চেয়েও বেশি বাড়াতে হবে। তবে বিদ্যুৎ এমন একটি উপকরণ যার উৎপাদন ইচ্ছা করলেই বাড়ানো যায় না। চাহিদার সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গতি রাখতে গিয়ে সরকারকে নানামুখী পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। প্রথমদিকে কুইক রেন্টাল পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে চাহিদা পূরণের পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। কুইক রেন্টালে উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হলেও সংক্ষিপ্ত সময়ে বিদ্যুৎ পাওয়ার এটিই হলো একমাত্র উপায়। আমাদের মনে আছে, ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও চলতি মেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা সাত হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি ছিল। তার আগে পরিস্থিতি ছিল প্রায় অসহনীয়। আমরা দেখেছি, গোটা দেশ যখন ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে খাবি খেয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা চার হাজার মেগাওয়াটও ছুঁতে পারেনি। তেমন পরিস্থিতিতে ১৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা নিঃসন্দেহে গর্ব করার মতো সাফল্য।
বর্তমান মহাজোট সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে যে অগ্রগতি হয়েছে তাকে ধরে রাখতে হবে। বিদ্যুতের চাহিদা প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রত্যন্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের এখন আর বৈদ্যুতিক সুবিধার বাইরে রাখা ঠিক হবে না। একবিংশ শতকে গণমানুষের প্রধান দাবি, তারা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ চায়। সেই সঙ্গে লোডশেডিং ব্যবস্থা যেন চিরতরে বিলুপ্ত হয়, সরকার সে ব্যবস্থা করতে হবে। বিদ্যুৎ খাতে বর্তমান সরকার যে সাফল্য অর্জন করেছে তা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে, দেশকে বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হবে। বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে সমন্বিত পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই। তবে দেশে উৎপাদন কিংবা আমদানি সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার প্রতিফলন যেমন ঘটাতে হবে। সব ক্ষেত্রে যাতে জাতীয় স্বার্থ প্রাধান্য পায় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বিদ্যুৎ এখন জীবনেরই একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। বড় বড় মিল-কারখানাসহ সবই বিদ্যুৎ চলে গেলে অচল হয়ে পড়ে। শহুরে জীবন অনেকাংশে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। অনেক শহুরে সুযোগ সুবিধা গ্রামে পৌঁছে যাচ্ছে বলতে গেলে বিদ্যুতের কল্যাণেই। গ্রামের মানুষও এখন আয়রন, ফ্রিজ-ডিপফ্রিজ টিভি ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ চলে গেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খুবই কষ্টের মধ্যে ক্লাস করতে হয়। ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারো পক্ষে বিষয়টা অনুভব করা সম্ভব নয়। ১৯৯১ সালে এত লোড শেডিং ছিল না। দেশের শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অনেক অনেক বিভাগে এই দীর্ঘ সময় অনেক উন্নতি হয়েছে। ব্যতিক্রম মনে হয় শুধুই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায়। লোডশেডিং কমেনি, আগের মতো সহনীয় মাত্রায়ও নেই, বরং চরম আকার ধারণ করেছে। দেশে ছোট-বড় অনেক উন্নতি হয়েছে। এত সব দিকে এত উন্নতি যখন দেশে হচ্ছে তখন বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণ কেন সম্ভব হচ্ছে না বুঝতে পারি না। দেশ থেকে লোডশেডিংয়ের অভিশাপ তাড়ানো গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ডিজিটাল হয়ে যেতে পারে। কারণ স্পার্টফোন-ল্যাপটপ এখন মানুষের হাতে হাতে প্রায়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ খরচেই দিন দিন ডিজিটালাইজড হচ্ছে, সরকারি অফিসগুলোর বেশিরভাগই সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ডিজিটালাইজড হচ্ছে। ব্যাংকে টাকা জমা রাখা বা তোলার জন্য অধিকাংশ ব্যাংকে এখন অন লাইন সুবিধা আছে। ডিজিটাল হবার চেষ্টা করার পরও এসব কিছু পুরোপুরি ডিজিটাল হতে পারছে না শুধুই লোড শেডিংয়ের কারণে। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করে মানুষের মন থেকে লোড শেডিংয়ের ধারণা উচ্ছেদ করতে পারলে বর্তমানে সরকারের কথা মানুষ যুগ যুগ ধরে স্মরণ রাখবে সত্যিকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার রূপকার হিসেবে।
    লেখক : উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য
    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

মানবকণ্ঠ/আরএস





অ্যাপস ও ফিড
সামাজিক নেটওয়ার্ক
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আবু বকর চৌধুরী
প্রকাশক : জাকারিয়া চৌধুরী
রোড -১৩৮, প্লট - ১/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২
ফোনঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৩-৫, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৮
ই-মেইল : info@manobkantha.com, mkonlinedesk@gmail.com
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । মানবকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আবু বকর চৌধুরী, প্রকাশক : জাকারিয়া চৌধুরী
রোড -১৩৮, প্লট - ১/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২ ফোনঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৩-৫, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৮
ই-মেইল : info@manobkantha.com, mkonlinedesk@gmail.com