শিরোনাম :
বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিন
সম্পাদকীয় ডেস্ক
Published : Tuesday, 3 January, 2017 at 2:21 PM
বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিনরাজধানী ঢাকায় ঠিক কতজন মানুষের স্থায়ী বসবাস এর সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও সেই সংখ্যাটা যে অত্যধিক এ বিষয়ে কারো কোনো সন্দেহ নেই। তবে যারা এই বিষয়ে কাজ করেন বা মোটামুটি খোঁজখবর রাখেন তাদের মতে ঢাকা শহরে ধারণক্ষমতার অন্তত দ্বিগুণেরও বেশি মানুষ বসবাস করেন। এই অতিরিক্ত মানুষের বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় আবাসনের ব্যবস্থা নেই। তবুও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নানা প্রয়োজনে মানুষ ঢাকায় আসছেন এবং এদের মধ্যে অনেকেই স্থায়ীভাবে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণবিষয়ক সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) বার্ষিক প্রতিবেদনে রাজধানীর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ ভাড়া বাসায় বসবাস করেন কিংবা বলা যেতে পারে ভাড়ায় বাসা নিয়ে বসবাস করতে বাধ্য হন। মানুষের মৌলিক চাহিদার এই জায়গাটি নিয়েও চলছে এক ধরনের বাণিজ্য কিংবা বলা যায়, মানুষের এই অসহায়ত্ব নিয়েও একশ্রেণীর বাড়িওয়ালা দিন দিন অমানবিক হয়ে উঠছেন। ১ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখ ক্যাব প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে নিত্যপণ্যের তুলনায় বাড়িভাড়া বেড়েছে  প্রায় দেড় গুণ হারে এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর মোট আয়ের সিংহভাগ খরচ হয়ে যায় বাড়িভাড়ায়।
গত ২৫ বছরে রাজধানীতে বাড়িভাড়া বেড়েছে প্রায় ৩৮৮ শতাংশ। নিত্যপণ্যের দামের তুলনায় বাড়িভাড়া বৃদ্ধির হার প্রায় দ্বিগুণ এবং প্রতিবার নতুন বছরেই কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে বাড়ির ভাড়া বাড়ানো হয়। এবারো বছরের শুরুতে বাড়ির মালিকরা নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন বলে ক্যাব প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৬ সালে ঢাকা শহরে বাড়িভাড়া সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পাকা টিনশেডে ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ, ফ্ল্যাটে বেড়েছে ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ, মেস রুমে বেড়েছে ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং বস্তিতে বেড়েছে ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ যা কিনা আয় বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়িভাড়ার বৃদ্ধির এই হার অনেক ক্ষেত্রেই অসঙ্গতিপূর্ণ এবং নি¤œ আয়ের মানুষের জীবনমানের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
ভুক্তভোগীরা মনে করেন সরকার কখনোই ভাড়াটেদের পক্ষে ন্যায্য পদক্ষেপ নেয়নি এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে পুঁজি করে অধিকাংশ বাড়িওয়ালা স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে ১৯৯১ সালের বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের সংস্কার করে ভাড়াটেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আবাসন নিশ্চয়তা একটি দেশের প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকারের অন্যতম। এর অধিকার ভোগ করার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার দায় রাষ্ট্রের। ২০১০ সালে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষ থেকে জনস্বার্থে হাইকোর্টে করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেয় রায়ে বিদ্যমান আইনটি কার্যকর না হওয়ায় ভাড়াটেকে সুরক্ষা দেয়া যাচ্ছে না বলে উল্লেখ করা হয়। এই বিষয়টি সরকারকে আমলে নিতে হবে এবং আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার করে ভাড়াটিয়াদের স্বার্থ সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে বছরের শুরুতেই বাড়িওয়ালারা অন্যায্যভাবে ভাড়া বাড়ানোর পাঁয়তারা করতে না পারেন।

মানবকণ্ঠ/আরএস





অ্যাপস ও ফিড
সামাজিক নেটওয়ার্ক
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আবু বকর চৌধুরী
প্রকাশক : জাকারিয়া চৌধুরী
রোড -১৩৮, প্লট - ১/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২
ফোনঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৩-৫, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৮
ই-মেইল : info@manobkantha.com, mkonlinedesk@gmail.com
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত । মানবকণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আবু বকর চৌধুরী, প্রকাশক : জাকারিয়া চৌধুরী
রোড -১৩৮, প্লট - ১/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২ ফোনঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৩-৫, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫০৪৪৯৪৮
ই-মেইল : info@manobkantha.com, mkonlinedesk@gmail.com