১২ দিন ধরে কুবি’র উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বিরুদ্ধে অবৈধ নিয়োগ-বাণিজ্য সিন্ডিকেট ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে তাকে অপসারণের দাবিতে রোববার পর্যন্ত উপাচার্যের কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। ফলে গত ৮ কার্যদিবস উপাচার্য কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি। সোমবার বেলা ১২টা  তালা খোলা না হলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ তালা ভেঙ্গে উপাচার্যকে কার্যালয়ে প্রবেশ করাবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে ছাত্রলীগ নেতারা। রোববার ক্যাম্পাসের কাঁঠালতলায় এক সমাবেশে ছাত্রলীগের নেতারা এ ঘোষণা দেন।
জানা গেছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধ নিয়োগ-বাণিজ্য সিন্ডিকেট ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে গত ৭ মার্চ উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে শিক্ষক সমিতি। এরপর থেকে রোববার পর্যন্ত কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখায় উপাচার্য  ড. মো. আলী আশরাফ কার্যালয়ে আসতে পারেনি। উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত দাবি করে তার সভাপতিত্বে সিন্ডিকেটের ৬৫তম সভায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বাধা দেয় শিক্ষক সমিতি। শিক্ষক সমিতির বাধার মুখে নানা কৌশলে উপাচার্য তার বাসভবনে ১০ মার্চ সিন্ডিকেট সভায় করেন বলে অভিযোগ করে শিক্ষক সমিতি।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান সভায় যোগদান করতে আসলে শিক্ষকদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়।
শিক্ষক সমিতির দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান শিক্ষকদের অপমান করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতির সমর্থন করছেন। ঐ দিন রাতেই উপাচার্য শিক্ষকদের সন্ত্রাসী অখ্যায়িত করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে ১৩ মার্চ উপাচার্যের জরুরি অপসারণের দাবিতে ক্যাম্পাসে মূল ফটকে চক্র মানববন্ধন করে শিক্ষক সমিতি। প্রথম থেকেই শিক্ষক সমিতি উপাচার্য বিরোধী কর্মসূচিতে একাত্মতা পোষণ করে তাতে অংশ গ্রহণ করে আসছে বঙ্গবন্ধু পরিষদ।
এ দিকে ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনে ফুল দেয়া নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে মারামরির ঘটনা ঘটে।
রোববার ছাত্রলীগ পূর্ব ঘোষণ অনুযায়ী ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে এক সমাবেশে বলেন, শিক্ষকদের সম্মানের কথা বিবেচনা করে রোববার আমরা তালাতে হাত দেইনি। সোমবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সময়সীমা বেধে দিয়েছে ছাত্রলীগ। তাদের দাবি, শিক্ষক সমিতি তাদের কাছে সময় চেয়েছে বলেই শিক্ষকদের সম্মান দেখিয়ে এ সময় দেয়া হয়েছে।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ‘ছাত্রলীগের সঙ্গে এমন কোন কথাই আমাদের হয়নি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এ কর্মসূচিতে নেমেছি। অন্যায়কে মেনে নেয়া যায় না। শিক্ষক সমিতি একটি বিধিবদ্ধ সংগঠন এবং এ সংগঠনের কর্মসূচি সংগঠন যেমন চাইবে তেমনই হবে। উপাচার্যকে অপসারণ না করা পর্যন্ত আমাদের এ কর্মসূচি চলবে।’
এ দিকে প্রথম থেকেই শিক্ষক সমিতির আন্দোলনে সকল শিক্ষক নেই বলে দাবি করে আসছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আশরাফ। তিনি বলেন, ‘গুটি কয়েক শিক্ষক আমার অপসারণ চায়। আমি কেন তাদের কথায় চলে যাব।’

মানবকণ্ঠ/বিএএফ