সংঘর্ষের ঘটনায় বাঁশখালীর ওসিকে হাইকোর্টে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে সম্প্রতি সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির স্ত্রীর করা অভিযোগ এজাহার হিসেবে না নিয়ে ইচ্ছামতো এজাহার লেখায় বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৫ এপ্রিল সকালে হাইকোর্টে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
একটি রিটের শুনানি শেষে গতকাল সোমবার বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একেএম ফয়েজ, শাহানা পারভীন। সঙ্গে ছিলেন মো. শাহীন আলম ও মো. শাখাওয়াত হাসান।
এ ছাড়া সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির স্ত্রীর করা অভিযোগ এজাহার হিসেবে কেন গ্রহণ করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) এবং বাঁশখালীর ওসি ও ইউএনওকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
১৯ মার্চ আদালতে বাঁশখালীর গণ্ডামারায় সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী রুমি আক্তার রিট আবেদনটি করেন। এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনও যুক্ত করা হয়।
এর আগে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি গণ্ডামারার আভাইত্যার ঘোনা এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে মোহাম্মদ আলী নামে একজন নিহত হন। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির স্ত্রী রুমি আক্তার বাদী হয়ে স্বামী হত্যার অভিযোগে ২৯ জনকে আসামি করে বাঁশখালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। তবে ওই অভিযোগ আমলে না নিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো অজ্ঞাতনামা ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। পরে এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন রুমি আক্তার।
এর আগে গত বছরের ৪ এপ্রিল ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনকে কেন্দ্র করে গণ্ডামারায় গ্রামবাসীদের দু’পক্ষ ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন নিহত হন।