পদ্মা সেতু দুর্নীতি

ষড়যন্ত্রকারীদের খোঁজার অগ্রগতি জানাতে সময় পেল রাষ্ট্রপক্ষ

পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যে থেকে ষড়যন্ত্রে যুক্ত প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করতে কমিশন বা কমিটি গঠন বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চেয়ে আগামী ৭ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন।
আদালতের ডেপুটি অ‌্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস জানান, রুলের বিবাদী মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, যোগযোগ সচিব, দুদক চেয়ারম্যান ও আইজিপিকে আগামী ৭ মের মধ্যে এবিষয়ে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ইউনূসের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান, বিচার দাবি’ শিরোনামে জাতীয় দৈনিক ইনকিলাবে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এটিসহ কয়েকটি দৈনিকের প্রতিবেদন নজরে এলে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত রুল দেন। রুলে পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যে থেকে ষড়যন্ত্রে যুক্ত প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করতে কমিশন বা কমিটি গঠনের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চান আদালত। একই সঙ্গে তাদের কেন বিচারের মুখোমুখি করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়। কমিটি বা কমিশন গঠন ও কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, ৩০ দিনের মধ্যে অগ্রগতি জানাতে বলেন হাইকোর্ট। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে এটি জানাতে বলা হয়।
দুর্নীতির অভিযোগে ২০১১ সালে পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ করে দেয় এর প্রধান অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংক। তাদের অনুরোধে কানাডার পুলিশ সে দেশের দুই নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এসএনজি ও লাভালিন ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। ২০১২ সালে কানাডার আদালতে এ ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করা হয়। ২০১৩ সালে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজে দুর্নীতির ঘটনায় এসএনসিকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ায়।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির মামলাকে ‘অনুমানভিত্তিক’ ও ‘গুজব’ বলে উল্লেখ করেছেন কানাডার একটি আদালত। একই সঙ্গে পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৩ সাল থেকে বিশ্বব্যাংকের কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত কানাডীয় প্রতিষ্ঠান এসএনসি’কেও ‘নির্দোষ’ বলে রায়ে উল্লেখ করেন মামলাটির বিচারক ইয়ান নরডেইমার।

মানবকণ্ঠ/এসএস