ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক পুঁজি বিনিয়োগ উন্নয়নসহ দুই চুক্তি আজ মন্ত্রিসভায়

ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক পুঁজি বিনিয়োগ উন্নয়নসহ দুটি চুক্তি আজ মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। অন্য চুক্তিটি হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইট ফ্রিকোয়েন্সি সমন্বয় প্রস্তাব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসছে ৭ এপ্রিল ভারত সফরের আগে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন সাপেক্ষে ভারতের সঙ্গে এসব চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ মন্ত্রিসভায় দুটি বিষয় উপস্থাপন করা হচ্ছে। শিগগিরই আরো কিছু চুক্তি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে অনুমোদন নেয়া হবে।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে দ্রুত চুক্তির খসড়া মন্ত্রিসভায় পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সামনে মন্ত্রিসভায় আরো কিছু চুক্তি আসছে বলে সূত্রটি আভাস দিয়েছে। তিস্তা পানি চুক্তির বিষয়টি নিয়ে এখন পানিসম্পদ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। আনুষ্ঠানিক চুক্তির পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিকভাবে যে বিষয়গুলো আলোচনা হতে পারে তার একটি ব্রিফ তৈরি করছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী এর আগে ভারত সফরের সময় যে সব বিষয় আলোচনা ও যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছিল আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরের সময় যে বিষয়গুলো আলোচনা হয় তার আলোকে হালনাগাদ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য কাঠামোগত চুক্তির আওতায় উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে।
এদিকে চুক্তি স্বাক্ষর অনুমোদন ছাড়াও আজকের সকাল ১০টার মন্ত্রিসভায় চারটি আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে- বালাইনাশক আইন, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা আইন, বস্ত্র আইন ও প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড আইন। বর্তমানে যে অপরিকল্পিতভাবে নগর গড়ে উঠছে তার জন্য একটি গাইড লাইন প্রয়োজন রয়েছে বলে দীর্ঘদিন যাবৎ দাবি উঠছে। অপরিকল্পিত নগর ও অঞ্চল গড়ে ওঠার কারণে একদিকে যেমন ফসলি জমি কমে আসছে, তেমনি ঘরবাড়ি তৈরি হচ্ছে যত্রতত্র। প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে সরকার একটি লাগাম টেনে ধরতে চায় বলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে ।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় নামে মন্ত্রণালয়টি দীর্ঘদিন যাবৎ অবহেলিত বলে আক্ষেপ করেছেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম। বস্ত্র তাদের অধীনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। কিন্তু বস্ত্রের কোনো বড় অনুষ্ঠানে তাদের কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয় না। বিষয়টি সর্বোচ্চ মহলে কানে গেছে। যে কারণে বস্ত্র খাতে বিনিয়োগ থেকে শুরু করে এর উন্নয়ন, সহায়তা প্রদান, মান নিয়ন্ত্রণ, তদারকি ও নিবন্ধনের বিষয়টি এখন বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় আসছে। এই আইনের মাধ্যমে বস্ত্র মন্ত্রণালয় এখন থেকে পোশাক কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবে বলে জানা গেছে। পোশাক কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন ছাড়া কোনো বস্ত্রশিল্প পরিচালনা করা যাবে না, এমন বাধ্যবাধকতা প্রস্তাবিত আইনে রাখা হচ্ছে। বস্ত্রশিল্পের যে কোনো চাহিদা পোশাক কর্তৃপক্ষ সহায়তা দেবে। পাশাপাশি তাদের সেবা দেয়ার বিষয়টি বস্ত্রশিল্পের কাছে পৌঁছে দেবে। প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত বস্ত্র মিলের ব্যবস্থাপনা ও তদারকি করা হবে। এ ছাড়াও বস্ত্র খাতে দক্ষ জনবল সৃষ্টি করা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়টি আইনে অন্তর্ভুক্ত রাখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.