জঙ্গিবাদকে প্রকাশ করার জন্যই কি হত্যা?

ফাইল ছবি

রাজধানীর আশকোনায় আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় র‌্যাবের হাতে আটকের পর মারা যাওয়া মো. হানিফ মৃধার সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, জঙ্গিবাদকে প্রকাশ করার জন্য এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে কি না।
সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, আশকোনায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে হানিফ মৃধা নামে একজনকে আটক করার কথা বলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাদের হেফাজতে থাকা অবস্থায় বুকে ব্যাথা অনুভব করলে ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। অথচ তার পরিবার বলেছে তাকে ২৭ ফেব্রুয়ারি র‌্যাব আটক করেছে। তাহলে র‌্যাবের বক্তব্য সঠিক? নাকি তার পরিবারের। আমরা এই ঘটনার ব্যাখা দাবি করছি। সত্য উদঘাটন করতে সুষ্ঠু তদন্ত করার দাবি জানাচ্ছি।
মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু এই একটি ঘটনাই নয়, এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের পরিবারের বক্তব্যে মিলছে না।  কখনো শোনা যায় তিন মাস আগে তুলে নেয়া হয়েছে, ছয় মাস আগে তুলে নেয়া হয়েছে। যদি এসব পরিবারের দাবি সঠিক হয় তাহলে আমরা বলতেই পারি এটা গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই লোকগুলো তুলে নিয়ে পরবর্তীতে তাদেরকে জঙ্গি সাজিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। জঙ্গিবাদকে প্রকাশ করতে তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা আশঙ্কা করছি, যেকোনো সময় কাউকে তুলে নিয়ে যাবে এবং জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত অভিযোগ দিয়ে তাকে হত্যা করবে।
জঙ্গিবাদ দমনে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা জঙ্গিবাদ দমনে জাতীয় ঐক্যর কথা বলেছি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছি, কিন্তু সরকার আমাদের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না।
মির্জা আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জঙ্গিবাদকে পছন্দ করে না। আমাদের মানুষের মধ্যে তার লেশ মাত্র নেই। কিন্তু সরকার আজকে জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছে। প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সরকার আন্তরিক নয়। বরং তারা এটাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ব্যবহার করছে। তারা ভয়ঙ্কর খেলায় মেতেছে। এই খেলা দেশকে কোথায় নিয়ে যাবে তা আমরা জানি না।
বাংলাদেশের মাথায় জঙ্গিবাদের তকমা ইতিমধ্যে লেগে গেছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে জঙ্গিবাদ একটি ভয়ঙ্কর সমস্যা। যদি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এর সমধান না করি। তাহলে বাংলাদেশকেও আফগানিস্তান, লিবিয়া, সিরিয়া মত ভাগ্য বরণ করতে হবে কিনা আমরা জানি না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরের কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত যান এটা আমরা চাই। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যে সমস্যাগুলো আছে এর সমাধান চাই। তিস্তা নদীর পানি চাই, অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানির ন্যায্য হিসাব চাই।
আগামীতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের চলমান সঙ্কট নিরসন সম্ভব দাবি করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ অপেক্ষা করছে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য। কারণ দেশের মানুষ মনে একমাত্র নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিরাজমান সংকট নিরসন সম্ভব। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন চায়। বিগত দিনের অভিজ্ঞাতায় বলতে পারি বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই একটি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার চাই।
স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ জিয়ার ভূমিকা ও বর্তমান রাজনৈতিক শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)। এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মানবকণ্ঠ/এমআই/এফএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published.