চোরাবালির চোরামি

চোরাবালি পানি ও তরল কাদা মিশ্রিত এমন গর্ত, যার ফাঁদে একবার পা দিলে আর নিস্তার নেই। আস্তে আস্তে ডুবে যেতে হয় বালির ভেতর। নড়লেই ডুবে যেতে থাকে শরীর।
চোরাবালিতে পড়ার পর উঠে আসার চেষ্টা করলে শরীরের চাপে আরো দ্রুত ডুবে যেতে হয়। সময়মতো কেউ এগিয়ে না এলে নিশ্চিত মৃত্যু। তবে, অধিকাংশ চোরাবালি মারাত্মক নয়। এটি প্রকৃতির এক বিস্ময়।
চোরাবালিতে আটকে গেলে একদমই অধৈর্য হওয়া যাবে না। অধৈর্য হয়ে হাত-পা ছোড়াছুড়ি করলে আরো বেশি আটকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। জেনে রাখা ভালো, চোরাবালি পানির চেয়ে অনেক বেশি ঘন। তাই চোরাবালিতে ভেসে থাকা পানির চেয়ে অনেক বেশি সহজ। সঙ্গে কোনো ভারি বস্তু থাকলে তা ছেড়ে ফেলতে হবে। কারণ, ভারি বস্তু আরো বেশি দ্রুত নিচে টেনে নিতে পারে। মানুষের শরীরের ঘনত্ব প্রতি ঘন ফুটে ৬২ দশমিক ৪ পাউন্ড। অর্থাৎ মানুষ যদি পানিতে ভেসে থাকতে পারে, তাহলে চোরাবালিতেও অনায়াসে পারবে। যেহেতু চোরাবালির ঘনত্ব পানির থেকে বেশি। তাই চোরাবালিতে পড়ে গেলে একদম নড়াচড়া করা যাবে না। যত নড়াচড়া হবে তত ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়বে।
চোরাবালি শুধু সমুদ্র সৈকতেই থাকে না। নদীর পাড়ে, হাওরের আশপাশেও থাকতে পারে। বেশিরভাগ চোরাবালির গভীরতা কম হয়। খানিকটা ডোবার পর হয় তো পায়ের তলায় আটকে যেতে পারে। যদি তা না হয়, অর্থ্যাৎ যদি চোরাবালি খুব গভীর হয় পুরোপুরি ডুবে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে পানিতে আমরা যেভাবে সাঁতার কাটি, ঠিক সেভাবে নিজের শরীরকে যতটা সম্ভব অনুভূমিক করে ফেলতে হবে। তারপর খুব ধীরে ধীরে সাঁতরে চোরাবালির বাইরে আসার চেষ্টা করতে হবে। সঙ্গে যদি অন্য কোনো ব্যক্তি থাকে তাহলে তাকে বলতে হবে নিরাপদ দূরত্ব থেকে রশি ফেলতে এবং এই রশি ধরে ধীরে ধীরে চোরাবালি থেকে উঠে আসা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.