কমতে পারে সুদের হার, বাড়তে পারে ঋণের সিলিং

মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্তরা বাড়ি নির্মাণে সরকারি প্রতিষ্ঠান হাউস বিল্ডিং কর্পোরেশনের কাছে ঋণের জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের চাহিদা মতো ঋণ পেয়ে থাকেন। এই ঋণের সিলিং হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা। আর সুদের হার ১২ শতাংশ। অনেক সময় এই ঋণের ওপর চক্রবৃদ্ধি সুদও গুনতে হয়। যদি না সময় মতো ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা না হয়। তবে যারা আগামীতে বাড়ি নির্মাণের জন্য হাউস বিল্ডিং কর্পোরেশনের ঋণ চাইবেন বা আবেদন করবেন তারা সর্বোচ্চ ১ কোটি পেতে পারেন। শুধু তাই নয়, এই ঋণের টাকার ওপর সুদের হারও কমে আসতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। তবে এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে অর্থমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খোদ হাউস বিল্ডিং কর্পোরেশন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে সুদের হার কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে। আর সেই প্রস্তাবটি হচ্ছে, ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ শতাংশ করা। পাশাপাশি ঋণের সিলিং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি টাকায় নির্ধারণ করা। তাদের যুক্তি হচ্ছে, বর্তমানে বাড়ি নির্মাণে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আর বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে বাড়ি নির্মাণের উপকরণ এখন আর অনেকের হাতের নাগালের মধ্যে নেই। সর্বোচ্চ ৫০ লাখ ঋণ নিয়ে অনেকে পুরোপুরিভাবে বাড়ি নির্মাণ করতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে বাড়ি নির্মাণ সম্পূর্ণ করতে না পেরে ঋণ খেলাপি হতে বসেছে। তবে এর সংখ্যা এখনো অনেক কম বলে জানিয়েছেন কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা।
এদিকে হাউস বিল্ডিং কর্পোরেশনের এই প্রস্তাব নিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এক দফা বৈঠক করেছে। এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর খুব শিগগিরই অর্থমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। এমনকি আবার অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। পাশাপাশি এই কর্পোরেশনকে আরো শত্তিশালী করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আরো কিছু মূলধন জোগান দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। মূলধনের অভাবে কর্পোরেশন অনেক গ্রাহককে পর্যাপ্ত মূলধন সরবরাহ করতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, অন্যান্য ব্যাংক বাড়ি নির্মাণের জন্য যে পরিমাণ ঋণ দেয় তার সুদের হার এখন অনেকের হাতের নাগালের বাইরে। যে কারণে অনেকে হাউস বিল্ডিং কর্পোরেশন থেকে ঋণ নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠছে। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ প্রদান করে থাকে। রাজউক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় ৩ কাঠা প্লটে ৬ থেকে ৭তলা বাড়ি নির্মাণের নকশা অনুমোদন দিয়ে থাকে। কিন্তু ৫০ লাখ টাকা দিয়ে অনেকে ২ থেকে ৩তলার বেশি বাড়ি নির্মাণ করতে পারছেন না। আর বাড়ি নির্মাণ শেষ করার আগেই তাদের ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য বিভিন্ন ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়। কর্পোরেশনের থেকে দ্বিতীয় বন্ধক অনুমোদন দেয়ার নিয়ম প্রচলন নেই। আর অন্য ব্যাংকগুলো দ্বিতীয় ঋণ অনুমোদন করে না। যে কারণে হাউস বিল্ডিং থেকে ঋণ নেয়ার প্রবণতা বাড়ছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী তারাও ঋণ দিতে পারছে না। ফলে ঋণ দেয়ার প্রবাহ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে।