এরশাদের রাডার দুর্নীতি: দুদকের রিভিউ খারিজ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের রাডার ক্রয় মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের আদেশ বাতিল করে সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আবেদন (রিভিউ) খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যর বেঞ্চ এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন দুদকের পক্ষের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান।
আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। এরশাদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম।
খুরশিদ আলম খান সাংবাদিকদের জানান, রাডার ক্রয়সংক্রান্ত মামলাটি বিচারিক আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আপিল বিভাগের এ আদেশের ফলে এ মামলায় নুতন করে সাক্ষ্য নেয়ার আর কোনো সুযোগ থাকল না।
এর আগে বিচারিক আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে দুদকের করা এক আবেদন নিষ্পত্তি করে গত বছরের ২৪ নভেম্বর হাইকোর্ট মামলাটি যুক্তিতর্ক শুনানির পর্যায় থেকে প্রত্যাহার করে অভিযোগপত্রে থাকা সাক্ষ্য পরীক্ষার জন্য প্রসিকিউশনকে (দুদক) সুযোগ দিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বিচার শেষ করতে নির্দেশ দেন। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে মামলার অপর আসামি বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান সুলতান মাহমুদ ওই আবেদন করেন। চেম্বার বিচারপতি গত বছরের ২০ ডিসেম্বর এ আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। এরই ধারাবাহিকতায় ১৫ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগে আসে। অভিযোগপত্রে থাকা সাক্ষ্য (অবশিষ্ট) পরীক্ষার সুযোগ দিতে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ বাতিল করেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান সুলতান মাহমুদের করা (লিভ টু আপিল) নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেয়া হয়।
এরশাদ ছাড়া এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন, বিমান বাহিনীর সাবেক সহকারী প্রধান মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান সুলতান মাহমুদ ও ইউনাইটেড ট্রেডার্সের পরিচালক এ কে এম মুসা। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মামলাটি এখন যুক্তিতর্কের পর্যায়ে রয়েছে।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ১৯৯২ সালের ৪ মে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো মামলাটি দায়ের করে। ১৯৯৪ সালের ২৭ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ১৯৯৫ সালের ১২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এই মামলায় ৩৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষী নিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান এরশাদসহ অপর আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে থমসন সিএসএফ কোম্পানির রাডার না কিনে বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টিং কোম্পানির রাডার কেনে। এতে সরকারের ৬৪ কোটি ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯১৮ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়।
১৯৯২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালত ওই মামলায় এরশাদকে তিন বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন। ওই সাজার রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরই আপিল করেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.